Header Ads

Header ADS

ছত্তীসগড়ে মাওবাদীদের হাতে খুন ৪ গ্রামবাসী, মারধর অনেককে


বঙ্গ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক :-ফের একবার মাওবাদীদের দাপটে তটস্থ ছত্তীসগড়ের বাস্তার। গত দু’দিনে এই এলাকার বিজাপুর জেলায় মাওবাদীদের হাতে চারজন গ্রামবাসী খুন হয়েছেন বলে খবর। মারধর করা হয়েছে অনেক গ্রামবাসীকে। জানা গিয়েছে, পুলিশের চর, এই সন্দেহে ওই চারজনকে খুন করেছে মাওবাদীরা।
বাস্তার রেঞ্জের পুলিশের আইজি পি সুন্দররাজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, গত দু’দিনে গাঙ্গালুর থানা এলাকার ডুমরি-পালনার গ্রামে চারজনকে খুন করেছে মাওবাদীরা।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কয়েকজন গ্রামবাসীকে ডেকে পাঠিয়েছিল মাওবাদীরা। তাঁরা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে রাস্তা তৈরি করার সরকারি সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন। ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের পুলিশের চর হিসেবে অভিযুক্ত করে মাওবাদীরা। তারপর নৃশংসভাবে তাঁদের খুন করা হয়। যে চারজনকে খুন করা হয়েছে তাঁরা হলেন। পুসনার গ্রামের বাসিন্দা পুনেম সান্নু, গোরে সান্নু ওরফে ধ্রুব ও আয়তু ওরফে ফাল্লি এবং মেটাপাল গ্রামের বাসিন্দা ভুস্কু ওরফে তুলসি।
পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গ্রামবাসীদের অনেককে মারধরও করেছে মাওবাদীরা। তবে গত দু’দিনে চারজনকে খুন করা হলেও তাঁদের একসঙ্গে মারা হয়েছে না আলাদা আলাদা মারা হয়েছে সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
এই ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালেই নিরাপত্তারক্ষীদের একটি দল এলাকায় পৌঁছয়। সেখানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কোনও মাওবাদী কাছাকাছি এলাকায় লুকিয়ে আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রামবাসীদের কাছে মাওবাদীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে খবর।
গত কয়েক মাসে বাস্তার রেঞ্জে মাওবাদী কার্যকলাপ অনেকটাই বেড়েছে। তাদের নিশানায় রয়েছে নিরীহ গ্রামবাসীরা। এর ফলে জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানোর কথা ভাবছে ছত্তীসগড় সরকার। গ্রামবাসীদের যাতে তারা নিশানা না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার রাতে দান্তেওয়াড়া জেলার বিজাপুরের একটি গ্রামে পুলিশের চর অভিযোগে দুই গ্রামবাসীকে খুন করে নকশালরা। সেইসঙ্গে ওই দু’জনের সঙ্গে থাকা অনেককে মারধর করা হয়। সেখানে একটি বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। রাস্তায় এই হামলা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গত মাসে এই দান্তেওয়াড়ার চিকপাল গ্রামে মহিলা-সহ ১০ গ্রামবাসীকে পিটিয়ে মেরে ফেলে নকশালরা। জুলাই মাসেও পারচেলি গ্রামে ২৫ গ্রামবাসীকে মারধর করে নকশালরা।
বাস্তার রেঞ্জের পুলিশের আইজি পি সুন্দররাজ জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকায় সুকমা, দান্তেওয়াড়া ও বিজাপুরের ভিতরের দিকে ঢুকতে পারছে না নকশালরা। এই কাজে গ্রামবাসীরা পুলিশের সাহায্য করছেন। তাই রাগের মাথায় নিরীহ গ্রামবাসীদের নিশানা বানাচ্ছে তারা। করোনা সংক্রমণের সময় সরকারি সাহায্য পেয়ে গ্রামবাসীরা আরও বেশি প্রশাসনের দিকে ঝুঁকেছে। এটা মেনে নিতে পারছে না নকশালরা। তাই বারবার এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে তারা।

No comments

Powered by Blogger.