একশোর বেশি বাংলাদেশি সাংবাদিকের ছাড়পত্র বাতিলের অভিযোগ, বিশ্বকাপ ঘিরে ফের নতুন বিতর্ক
আইসিসি নাকি সমস্ত বাংলাদেশি সাংবাদিকের আবেদন একযোগে বাতিল করেছে। শুধু তাই নয়, কয়েকজন চিত্র সাংবাদিক, যাঁরা ২০ ও ২১ জানুয়ারি প্রাথমিকভাবে অনুমোদনের মেল পেয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও পরে সেই অনুমোদন ক্যানসেল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

ছবি: গুগল
টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। বাংলাদেশকে (Bangladesh) টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে (Scotland) জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতে এবার নতুন অভিযোগ উঠল আইসিসি-র (International Cricket Council) বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ জন ক্রীড়া সাংবাদিককে নাকি বিশ্বকাপের অ্যাক্রেডিটেশন দেওয়া হয়নি—এমনই দাবি একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় (India, Sri Lanka) আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলা এই বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিষয়টি ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে আলোচনার কেন্দ্রে।
কী অভিযোগ উঠছে আইসিসি-র বিরুদ্ধে?
বাংলাদেশের জনপ্রিয় দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টারে’র (The Daily Star) রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন (Amzad Hossain) জানিয়েছেন, চলতি বছর টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১৩০–১৫০ জন সাংবাদিক অ্যাক্রেডিটেশনের আবেদন করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আমার যতদূর জানা, একজনও ছাড়পত্র পাননি।’
আমজাদ আরও দাবি করেন, আইসিসি নাকি সমস্ত বাংলাদেশি সাংবাদিকের আবেদন একযোগে বাতিল করেছে। শুধু তাই নয়, কয়েকজন চিত্র সাংবাদিক, যাঁরা ২০ ও ২১ জানুয়ারি প্রাথমিকভাবে অনুমোদনের মেল পেয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও পরে সেই অনুমোদন ক্যানসেল করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যার জেরে আইসিসি-র নিরপেক্ষতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
অনুমোদন পেয়েও বাতিল! সাংবাদিকদের ক্ষোভ
রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশি সাংবাদিক মীর ফারিদ (Mir Farid) জানান, তিনি ২০ জানুয়ারি আইসিসি মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের (ICC Media Department) তরফে একটি ইমেল পান, যেখানে ভিসা সাপোর্ট লেটারও ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে ফের একটি মেল জানানো হয় তাঁর আবেদন বাতিল।
বাংলাদেশি ক্রীড়া সাংবাদিকদের দাবি, এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। সাংবাদিকরা ১৯৯৬ বিশ্বকাপ (1996 World Cup) থেকে শুরু করে আইসিসি-র প্রায় সব বড় টুর্নামেন্ট কভার করেছেন। এমনকি বাংলাদেশ আইসিসি-র পূর্ণ সদস্য (Full Member) হওয়ার আগেও এই জাতীয় সমস্যার মুখে পড়তে হয়নি।
‘কোনও যুক্তি নেই’—প্রতিবাদে সাংবাদিক সংগঠন
চলতি ঘটনার প্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবু (Arifur Rahman Babu)। ১৯৯৬ বিশ্বকাপ কভার করা এবং বর্তমানে বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (Bangladesh Sports Journalists Association) সভাপতি তিনি। আরিফুরের বক্তব্য, ‘কোনও দেশ টুর্নামেন্টে খেলুক বা না খেলুক, আইসিসি-র সহযোগী সদস্য দেশের সাংবাদিকরাও সাধারণত অ্যাক্রেডিটেশন পেয়ে থাকেন। এখানে সবাইকে একসঙ্গে বাতিল করার কোনও যুক্তি নেই। আমি এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছি!’ বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (Bangladesh Sports Press Association) ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস কমিউনিটির (Bangladesh Sports Journalists Community) সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

0 Response to "একশোর বেশি বাংলাদেশি সাংবাদিকের ছাড়পত্র বাতিলের অভিযোগ, বিশ্বকাপ ঘিরে ফের নতুন বিতর্ক"
Post a Comment